উৎসঃ ফিকহ-উস-সুন্নাহ, দ্বিতীয় খন্ড, নাম্বার ৩২ এবং ৪নং খন্ড, ১৪১ নাম্বার।
প্রায়ই আমাদের জীবনের অনেক বড় বড় সিদ্বান্ত নিতে হয়। যেমনঃ কোন প্রজেক্ট শুরু করব কিনা? পেশা পরিবরতন করব কিনা? নতুন করে বিনিয়োগ করব কিনা? বিয়ে করব কিনা? ইত্যাদি।
ইস্তিখারাহ(আরবি)- এর মানে "আল্লাহর কাছে কল্যান কামনা করা"। সাধারনত ইস্তিখারাহ করা হয় যখন দুটি বৈধ কাজের মধ্যে একটি-কে নির্বাচন করতে হয়। যেমনঃ পেশা নির্বাচন, বিয়ে, ব্যবসা ইত্যাদি। একইভাবে, একজন ভ্রমনকারির-ও ভ্রমনে বের হওয়ার আগে একজন ভাল মানুষের সাথে আলোচনা করা উচিত এবং ইস্তিখারাহ করা উচিত এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা- এর কাছে কল্যান কামনা করা উচিত
সা' দ ইবনে ওয়াকাস (রাদিআল্লাহু আনহু) হতে র্বণিত হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বলেছেন যে, "ইস্তিখারাহ হচ্ছে মানুষের উপর আল্লাহর স্বতন্ত্র অনুগ্রহের একটি, এবং আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে খুশি থাকা আদম সন্তানের জন্য একটি ভাগ্যের ব্যাপার। এবং আদম সন্তানের জন্য একটি দুঃভাগ্যের বিষয় হচ্ছে ইস্তিখারাহ করতে র্ব্যথতা, এবং আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে খুশি না হওয়া-ও আদম সন্তানের জন্য একটি দুঃভাগ্য ।"
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সৃষ্টিকরতার কাছে কল্যান কামনা করে এবং সৃষ্ট জীবের মধ্যে মু'মিনদের সাথে পরামর্শ করে, সে কখনো অনুতপ্ত হয় না।"
সালাতুল ইস্তিখারাহ সম্পরকে আল-বুখারির একটি হাদিসে বিস্তারিত র্বণনা আছে । হাদিসটি নিম্নোরুপঃ
"হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে র্বণিত আছে, রাসুলুল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদেরকে ইস্তিখারাহর (কল্যানের ইঙ্গিত প্রার্থনার) সালাত ও দু'আ শিক্ষা দিতেন, যেমন ভাবে আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি (রাসুলুল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যখন তোমাদের মধ্যে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজের পদক্ষেপ নেয়ার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন দু'রাকাত নফল সালাত পড়ে অতঃপর এই দু'আ পড়েঃ
""আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বি'ইলমিকা, ওয়া আসতাক্দিরুকা বি-কুদরাতিকা, ওয়া আস-আলুকা মিন ফাদলিকাল আজিম, ফা-ইন্নাকা তাক্দিরু ওয়ালা আক্দিরু,ওয়া তা' লামু, ওয়ালা আ' লামু, ওয়া আনতা 'আল্লামু-ল গুয়ুব, আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা 'লামু আন্না হাযা-ল আমরা -- ওয়া-ইয়াসমায়্যি হাজাতাহ--খাইরুন লি ফি দ্বীনি ওয়া মা' আশি ওয়া' আকি্বাতি আমরি--(অথবা) 'আজিলিহি ওয়া আজিলিহি--ফাক্দুরহু লি ওয়া ইয়াসসারহু লি ছুম্মা বারিক লি ফিহি, ওয়া ইন কুনতা তা' লামু আন্না হাযা-ল আমরা শাররুন লি ফি দ্বীনি ওয়ামা' শি ওয়াআ' আকি্বাতি আমরি--(অথবা) 'আজিলিহ ওয়া আজলিহ --ফাসরিফহু 'আন্না ওয়াসরিফনি 'আনহু ওয়াক্দুর লিল খাইরা হাইছু কা-না ছুম্মা আরদ্বীনি বিহি ""
অর্থঃ "" হে আল্লাহ ! আমি তোমার ইলমের মাধ্যমে তোমার কুদরতের মাধ্যমে তোমার নিকট শক্তির কামনা করছি এবং তোমার অনুগ্রহের প্রার্থনা করছি, কেননা, তুমি শক্তিধর, আমি শক্তিহীন । তুমি জ্ঞানবান; আমি জ্ঞানহীন এবং তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্বন্ধে পূর্ণজ্ঞানী । হে আল্লাহ ! এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজ বা বিষয়টি শব্দযোগে অথবা মনে মনে উল্লেখ করা হবে) তোমার জ্ঞান মুতাবিক যদি আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়ে, ইহলোয়া ও পরলোকের জন্য কল্যানকর হয় তবে উহা আমার জন্য নির্ধারিত কর এবং উহাকে আমার জন্য সহজলভ্য করে দাও, তারপর উহাতে আমার জন্য বরকত দাও । পক্ষান্তরে, এই কাজটি তোমার জ্ঞান মুতাবিক যদি আমার দ্বীন, আমার জীবিকা, আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়ে ইহকালের ও পরকালের জন্য ক্ষতিকর হয় তবে তুমি উহা আমার নিকট হতে দূরে সরিয়ে দাও এবং আমাকে উহা হতে দূরে সরিয়ে রাখ এবং যেখানেই কল্যান থাকুক, আমার জন্য সে কল্যান নির্ধারিত করে দাও । অতঃপর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখ ।""
যে ব্যাক্তি সৃষ্টিকর্তার নিকট ইস্তিখারাহ করে এবং সৃষ্ট জীবের মাঝে মু'মিনদের সাথে পরামর্শ করে আর তার কাজে দৃঢ়পদ থাকে সে কখনও অনুতপ্ত হয় না ।
আল্লাহ পাক বলেনঃ
"(হে রাসুল) তুমি জরুরী বিষয়ে তাদের (সহকর্মীদের) সাথে পরামর্শ করো, তারপর যখন দৃঢ়সংকল্পতা লাভ করো, আল্লাহর উপর পুর্ণভরসা করে চলবে ।" (সূরাঃ আ'লে ইমরান - ১৫৯)
সালাত-উল-ইসতিখারাহ আদায় করার নিয়ম
Posted by
Unknown
|
Labels:
life of a muslim
/
Subscribe to:
Post Comments (Atom)





0 comments:
Post a Comment